News & Articles
You will get the latest news about Astronomy
2026 January 11
28 views

পৃথিবী সাদৃশ্য 'সুপার আর্থ' এক্সোপ্ল্যানেটের খোঁজে বিজ্ঞানীরা!
আমাদের সৌরজগতের কেন্দ্র থেকে আনুমানিক ৩০ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (এইউ) দূরত্ব পর্যন্ত মোট ৮টি গ্রহ এবং এর পাশাপাশি প্রায় ২৯৩টি উপগ্রহ থাকলেও এই সোলার সিস্টেমের বাইরে আকাশগঙ্গা ছায়াপথে ছড়িয়ে রয়েছে আনুমানিক ট্রিলিয়ন এর অধিক সংখ্যক গ্রহ, উপগ্রহ এবং অন্যান্য মহাজাগতিক অবজেক্ট।

আমাদের সৌরজগতের বাহিরে এই জাতীয় গ্রহকে বলা হয় এক্সোপ্ল্যানেট বা বহিঃ সৌরজাগতিক গ্রহ। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আমাদের সোলার সিস্টেমের বাহিরে প্রথম কোনো এক্সোপ্ল্যানেট শনাক্ত করেন আজ থেকে মাত্র ৩০ বছর আগে ১৯৯৫ সালে। যার নাম দেওয়া হয় ৫১ পেগাসি বি এক্সোপ্ল্যানেট।


শিল্পীর দৃষ্টিতে বহির্গ্রহ ৫১ পেগাসি বি

তাছাড়া হাবল, কেপলার ও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মতো উচ্চ প্রযুক্তির কল্যাণে ১৯৯৫ সাল থেকে চলতি ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা প্রায় ৬৫০০টি বা তার অধিক সংখ্যক এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করে তালিকাভুক্ত করেছেন। এই এক্সোপ্ল্যানেটগুলোর মধ্যে অনেকগুলো পৃথিবীর মতো দেখতে বা পরিবেশের সাথে মিল থাকায় সেগুলোকে আবার "সুপার আর্থ" হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আসলে পৃথিবীর মতো সুপার-আর্থ বলতে বোঝায় এমন বহির্গ্রহ (exoplanet) যা পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা বড়ো কিন্তু নেপচুনের মতো গ্যাসীয় দৈত্যাকার গ্রহের চেয়ে ছোট হয়ে থাকে। এই জাতীয় সুপার আর্থ এককভাবে শিলা, গ্যাস, অথবা উভয়ের মিশ্রণে গঠিত হতে পারে এবং এদের ভর ও আকার পৃথিবী থেকে আনুমানিক ১.৫ গুণ থেকে ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। তবে সুপার আর্থ হলেই যে তা পানি ও জটিল প্রাণে ভরপুর থাকবে বিষয়টি তা কিন্তু নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞানীরা এমনই বেশ কয়েকটি সুপার-আর্থ যেমন জেজি ২৫১ সি, টিওআই-৭১৫ বি ও টিওআই-১৮৪৬ বি নামক এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করেছেন, যা কিনা তাদের হোস্ট নক্ষত্রের অনেকটাই বাসযোগ্য অঞ্চলে (habitable zone) অবস্থান করছে। আর বিজ্ঞানীরা মনে করেন এই জাতীয় এক্সোপ্ল্যানেট বা সুপার আর্থগুলোতে হয়ত জল ও এলিয়েন লাইফের অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকতে পারে।

আসলে এই হাজার হাজার এক্সোপ্ল্যানেটের মধ্যে টেলস্কোপ দ্বারা পৃথিবীর মতো সুপার আর্থ খুঁজে বের করে তার প্রকৃত বৈশিষ্ট্য ও গঠন পর্যবেক্ষণ করা প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে খুবই চ্যালেঞ্জিং এবং জটিল একটি কাজ হয়ে যায়। আর এক্সোপ্ল্যানেটের মধ্যে সুপার-আর্থ বলতে পৃথিবীর চেয়ে বড় কিন্তু গ্যাসীয় দানব নয় এমন পাথুরে গ্রহকে বোঝানো হয়।

সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জেজি ২৫১ সি নামক সুপার আর্থ শনাক্ত করেছে, যা কিনা ব্যাসের দিক থেকে পৃথিবী অপেক্ষা প্রায় ১.৮ গুণ বড় এবং এর ভর প্রায় ৩.৮৮ গুণ বেশি। এই গ্রহটিতে সম্ভাব্য প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে বলে মনে করেন নাসার বিজ্ঞানীরা। যদিও এটি তাঁদের একটি প্রাথমিক প্রেডিকশন বা অনুমান ব্যতীত আর কিছুই নয়।

পৃথিবীর মতো একটি সুপার-আর্থ বহির্গ্রহ GJ 251 c–এর শিল্পীর কল্পচিত্র,যার ভর পৃথিবীর প্রায় চার গুণ। সূত্র:ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, আরভাইন-এর চিত্রাঙ্কন।

জেজি ২৫১ সি নামের এই "সুপার-আর্থ" এক্সোপ্ল্যানেটটি পৃথিবী থেকে মাত্র ১৮ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। এটি তার একটি হোস্ট লাল বামন নক্ষত্র জেজি ২৫১-এর বাসযোগ্য অঞ্চলে (habitable zone) রয়েছে এবং এটি তার হোস্ট নক্ষত্রকে মাত্র ৫৩.৬ দিনে প্রদক্ষিণ করে, যার ফলে সেখানে হয়ত তরল জল এবং জটিল জীবনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

পরিশেষে বলা যায়, টেলিস্কোপ দ্বারা পৃথিবী থেকে অত্যন্ত দূরবর্তী অঞ্চলে অবস্থান করা এক্সোপ্ল্যানেট শনাক্ত করে তার প্রকৃত গঠন এবং বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করার মতো করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এখনো পর্যন্ত অনেকটাই সীমিত পর্যায়ে রয়ে গেছে। যদিও মানবজাতির কাছে এ ধরনের আবিষ্কার মহাবিশ্বের অজানা রহস্য ও বৈচিত্র্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।


তথ্যসূত্র: Wikipedia, ESA, NASA Exoplanet Archive, space.com


লেখক পরিচিত:

সিরাজুর রহমান(শিক্ষক ও লেখক)সিংড়া,নাটোর,বাংলাদেশ।