News & Articles
You will get the latest news about Astronomy
2026 January 18
13 views

পূর্ণিমা কখন ও কীভাবে ঘটে? চাঁদের আলোয় ভেজা এক পূর্ণ গল্প ।
প্রাচীনকালে মানুষ চাঁদকে সময় গণনার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। কৃষকেরা ফসল কাটার সময় ঠিক করতেন চাঁদের আলো দেখে। জেলেরা পূর্ণিমার রাতে সমুদ্রে যেতেন, কারণ তখন আলো বেশি থাকত। বাংলার গ্রামে এখনও শোনা যায়, পূর্ণিমার রাতে নদীর পানি নাকি আলাদা করে ঝিলমিল করে। শিশুদের মুখে শোনা যায় চাঁদের বুড়ির গল্প, আর কবিদের কলমে পূর্ণিমা হয়ে ওঠে প্রেম ও বিষণ্নতার প্রতীক।


আধুনিক যুগে এসেও, শহরের কংক্রিটের ভিড়ে দাঁড়িয়ে কেউ যদি এক রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে পূর্ণিমার চাঁদ দেখে, মনে হয় সময়টা হঠাৎ থেমে গেছে। রাতের আকাশে চাঁদ উঠলেই আমাদের চোখ অজান্তেই তার দিকে চলে যায়। আর যখন সেই চাঁদ গোল, উজ্জ্বল এবং সম্পূর্ণ আলোয় ভরা থাকে, তখন আমরা বলি—আজ পূর্ণিমা।

গ্রামবাংলার কবিতা, লোককথা, ধর্মীয় আচার থেকে শুরু করে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান—সব জায়গায় পূর্ণিমার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু আসলে পূর্ণিমা কখন ঘটে এবং কীভাবে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়? চলুন ধীরে ধীরে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যাক।

পূর্ণিমা কী?

পূর্ণিমা হলো চাঁদের একটি নির্দিষ্ট দশা, যখন পৃথিবী থেকে দেখা চাঁদের পুরো দৃশ্যমান অংশ সূর্যের আলোয় আলোকিত থাকে। এই সময় চাঁদ দেখতে সম্পূর্ণ গোলাকার ও সবচেয়ে উজ্জ্বল মনে হয়।

অনেকে ভাবেন, চাঁদের নিজস্ব আলো আছে। বাস্তবে তা নয়। চাঁদ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। পূর্ণিমার সময় সেই প্রতিফলন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

পূর্ণিমা কখন ঘটে?

☀️ সূর্য → 🌍 পৃথিবী → 🌕 চাঁদ

পূর্ণিমা সাধারণত প্রতি চন্দ্রমাসে একবার ঘটে। একটি চন্দ্রমাসের দৈর্ঘ্য গড়ে প্রায় ২৯.৫ দিন। এই সময়ের মধ্যে চাঁদ পৃথিবীকে একবার সম্পূর্ণ প্রদক্ষিণ করে এবং তার বিভিন্ন দশা দেখা যায়।


অমাবস্যার প্রায় ১৪–১৫ দিন পরেই পূর্ণিমা ঘটে। এই সময় সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ প্রায় সরলরেখায় অবস্থান করে, যেখানে পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে থাকে। 

পূর্ণিমা কীভাবে ঘটে? বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

পূর্ণিমা বোঝার জন্য সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের অবস্থান বুঝতে হবে। সূর্য থেকে আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে,পৃথিবী সেই আলো গ্রহণ করে এবং চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে।


পূর্ণিমার সময় চাঁদ পৃথিবীর ঠিক বিপরীত পাশে অবস্থান করে। ফলে সূর্যের আলো চাঁদের যে দিকটি পৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকে, সেটি পুরোপুরি আলোকিত হয়। তাই আমরা সম্পূর্ণ উজ্জ্বল চাঁদ দেখতে পাই। এ সময় চাঁদ সূর্যের ঠিক বিপরীতে আকাশে থাকে। সাধারণত সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় পূর্ণিমার চাঁদ উদিত হয় এবং সারারাত আকাশে দেখা যায়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানে পূর্ণিমার গুরুত্ব

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য পূর্ণিমা বিশেষ পর্যবেক্ষণের সময় নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি চ্যালেঞ্জিং।

  • পূর্ণিমার আলো আকাশকে উজ্জ্বল করে তোলে
  • গভীর আকাশের বস্তু যেমন গ্যালাক্সি বা নীহারিকা দেখতে সমস্যা হয়
  • তবে চাঁদের পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণের জন্য এটি ভালো সময়

টেলিস্কোপ ব্যবহার করে পূর্ণিমার সময় চাঁদের পাহাড়, গহ্বর ও সমতল অঞ্চল পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। পূর্ণিমা ও জোয়ার-ভাটার সম্পর্ক পূর্ণিমার সময় সূর্য ও চাঁদের যৌথ মহাকর্ষীয় টান পৃথিবীর মহাসাগরে বেশি প্রভাব ফেলে। ফলে এই সময় Spring Tide বা উচ্চ জোয়ার দেখা যায়। এটি নাবিক ও উপকূলবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক ঘটনা।

শেষ কথা

পূর্ণিমা শুধু একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, এটি মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের নিখুঁত অবস্থান আমাদের উপহার দেয় এই অপূর্ব দৃশ্য। পরেরবার পূর্ণিমার রাতে আকাশের দিকে তাকালে, শুধু আলো নয়—এর পেছনের পুরো গল্পটাও মনে রাখবেন।



নিবন্ধ: এফ. রহমান

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট