News & Articles
You will get the latest news about Astronomy
2026 January 21
36 views

চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কেন হয়? পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সঙ্গে গ্রহণের সম্পর্ক।
চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্যের চলাচল আমাদের আকাশে নানা আকর্ষণীয় দৃশ্য তৈরি করে। এর মধ্যে সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক দুটি ঘটনা হলো চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ। হঠাৎ করে কখনো চাঁদের আলো ম্লান হয়ে যায়, আবার কখনো দিনের বেলায় সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ঢেকে যায়।


অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এসব ঘটনা কেন ঘটে এবং কীভাবে ঘটে? আসলে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। এগুলো চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্যের নির্দিষ্ট অবস্থান ও ছায়ার কারণে ঘটে। এই লেখায় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হবে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কেন হয় এবং এর পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণগুলো কী।

গ্রহণ (Eclipses)

গ্রহণ (Eclipses) বলতে বোঝায় এমন একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা, যখন একটি মহাজাগতিক বস্তু অন্য একটি বস্তুর সামনে এসে তার ওপর পড়া আলো আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বাধা দেয়। সাধারণভাবে সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের পারস্পরিক অবস্থানের কারণেই গ্রহণ ঘটে।

আমরা মূলত দুই ধরনের গ্রহণ দেখতে পাই

  • একটিকে বলা হয় সূর্যগ্রহণ সূর্যগ্রহণ (Solar Eclipses)
  • এবং অন্যটি চন্দ্রগ্রহণ চন্দ্রগ্রহণ (Lunar Eclipses)।

সূর্যগ্রহণ (Solar Eclipses) ঘটে তখন, যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে। ফলে চাঁদ সূর্যের আলো ঢেকে দেয় এবং পৃথিবীর কিছু অংশে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। এটি সাধারণত অমাবস্যার সময় ঘটে।


অন্যদিকে চন্দ্রগ্রহণ (Lunar Eclipses) ঘটে পূর্ণিমার সময়, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান নেয়। তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে এবং চাঁদ ধীরে ধীরে ম্লান বা অন্ধকার দেখায়। গ্রহণ কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। এটি নির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে এবং সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের কক্ষপথ ও গতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই গ্রহণ আমাদের মহাকাশের গতি, আলো ও ছায়ার আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।


পৃথিবীর ছায়া (Earth’s Shadow)

পৃথিবীর ছায়া (Earth’s Shadow) বলতে বোঝায় সেই অন্ধকার অংশ, যা পৃথিবী সূর্যের আলো আটকে দিলে মহাকাশে তৈরি হয়। সূর্য একটি শক্তিশালী আলোর উৎস, আর পৃথিবী যখন সেই আলোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন পৃথিবীর পেছনের দিকে একটি ছায়া পড়ে। এই ছায়াই পৃথিবীর ছায়া নামে পরিচিত।

পৃথিবীর ছায়া মূলত দুই ভাগে বিভক্ত

  • প্রথমটি হলো উম্ব্রা (Umbra)। এটি ছায়ার সবচেয়ে ভেতরের ও গাঢ় অংশ, যেখানে সূর্যের আলো একেবারেই পৌঁছায় না। কোনো বস্তু যদি এই অংশে প্রবেশ করে, তবে সেটি সম্পূর্ণ অন্ধকারে ঢেকে যায়।
  • দ্বিতীয় অংশটি হলো পেনাম্ব্রা (Penumbra)। এটি উম্ব্রার চারপাশের হালকা ছায়া অঞ্চল। এখানে সূর্যের আলো আংশিকভাবে পৌঁছায়, তাই আলো পুরোপুরি বন্ধ হয় না।

পৃথিবীর ছায়া সম্পর্কে জানার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো চন্দ্রগ্রহণ। পূর্ণিমার সময় চাঁদ যদি পৃথিবীর উম্ব্রা বা পেনাম্ব্রার ভেতর দিয়ে যায়, তখন চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়া পড়ে এবং চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। এইভাবে পৃথিবীর ছায়া সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের অবস্থান বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চন্দ্রগ্রহণ (Lunar Eclipses)

চন্দ্রগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার ভেতরে প্রবেশ করে (চিত্র দেখুন)। এই সময় পৃথিবী সূর্যের আলোকে চাঁদের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেয়। তখন চাঁদ থাকে পূর্ণিমা অবস্থায় (Full Moon)।

চন্দ্রগ্রহণের ধরন

চন্দ্রগ্রহণের ধরন বলতে বোঝায়, পূর্ণিমার সময় চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার কোন অংশ দিয়ে অতিক্রম করছে তার ওপর ভিত্তি করে চন্দ্রগ্রহণকে যে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।


পৃথিবীর ছায়ার গঠন অনুযায়ী চন্দ্রগ্রহণ মূলত তিন ধরনের

  • প্রথমটি হলো পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ (Total Lunar Eclipse)। এতে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর উম্ব্রা বা গাঢ় ছায়ার ভেতরে প্রবেশ করে। এই সময় চাঁদ উজ্জ্বল সাদা না থেকে লালচে বা তামাটে রঙের দেখায়। কারণ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দিয়ে বেঁকে আসা সূর্যের কিছু আলো চাঁদের ওপর পড়ে।
  • দ্বিতীয়টি হলো আংশিক চন্দ্রগ্রহণ (Partial Lunar Eclipse) । এ ক্ষেত্রে চাঁদের একটি অংশ পৃথিবীর উম্ব্রার ভেতরে যায়, আর বাকি অংশ বাইরে থাকে। ফলে চাঁদের এক পাশ অন্ধকার দেখায় এবং অন্য পাশ উজ্জ্বল থাকে।
  • তৃতীয়টি হলো উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ/ পেনামব্রাল চন্দ্রগ্রহণ (Penumbral Lunar Eclipse)। এতে চাঁদ পৃথিবীর পেনাম্ব্রা বা হালকা ছায়ার ভেতর দিয়ে যায়। এই ধরনের চন্দ্রগ্রহণে চাঁদের উজ্জ্বলতা সামান্য কমে, কিন্তু খালি চোখে পরিবর্তন অনেক সময় বোঝা কঠিন হয়।

এই তিন ধরনের চন্দ্রগ্রহণ পৃথিবীর ছায়া ও চাঁদের অবস্থানের পার্থক্যের কারণে ঘটে এবং প্রতিটি ধরন আমাদের আলো ও ছায়ার আচরণ সম্পর্কে আলাদা ধারণা দেয়। কখনো কখনো এমনও হয়, যখন চাঁদ পৃথিবীর পেনামব্রা ছায়ার মধ্যেও প্রবেশ করে না। তখন আমরা একটি স্বাভাবিক পূর্ণিমা চাঁদই দেখি।

নোট:

পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে যারা চাঁদ দেখতে পারেন, তারা চন্দ্রগ্রহণ দেখতে পারবেন, গ্রহণটি যেকোনো ধরনেরই হোক না কেন। এমনকি আপনি যদি মহাকাশের অন্য কোথাও থাকেন এবং চাঁদ দেখতে পারেন, তাহলেও আপনি চন্দ্রগ্রহণ দেখতে পাবেন।

নোট:

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ সাধারণত কালো হয়ে যায় না বা অদৃশ্য হয়ে যায় না। বেশিরভাগ সময় এটি লালচে রঙের হয়ে যায়। এর কারণ হলো, সূর্যের লাল আলো সরাসরি চাঁদের কাছে না পৌঁছালেও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে বাঁক নিয়ে পরোক্ষভাবে চাঁদের কাছে পৌঁছে যায়।

ডানজন স্কেল (The Danjon Scale)
ডানজন স্কেল (The Danjon Scale) হলো একটি পরিমাপক পদ্ধতি, যা চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের উজ্জ্বলতা ও রঙ কেমন দেখা যাচ্ছে তা বর্ণনা করতে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ কতটা অন্ধকার বা কতটা উজ্জ্বল লালচে রঙের দেখাচ্ছে, সেটি বোঝার জন্য এই স্কেলটি কাজে লাগে।

এই স্কেলটি ০ থেকে ৪ পর্যন্ত মান দিয়ে প্রকাশ করা হয়

L = 0 হলে চাঁদ খুবই অন্ধকার দেখায়, প্রায় কালো বা গাঢ় ধূসর রঙের মতো।
L = 1 হলে চাঁদ গাঢ় বাদামি বা ধূসর লালচে রঙের হয় এবং বিস্তারিত অংশ খুব কম দেখা যায়।
L = 2 হলে চাঁদ গাঢ় লাল বা মরচে রঙের দেখায় এবং ছায়ার প্রান্ত তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হয়।
L = 3 হলে চাঁদ উজ্জ্বল ইটের লাল বা কমলা রঙের হয় এবং ছায়ার ভেতরে চাঁদের বৈশিষ্ট্য পরিষ্কার দেখা যায়।
L = 4 হলে চাঁদ খুব উজ্জ্বল তামাটে বা কমলা রঙের দেখায়, কখনো নীলচে প্রান্তও লক্ষ্য করা যায়।

ডানজন স্কেল মূলত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অবস্থার ওপর নির্ভর করে। বায়ুতে ধুলা, মেঘ, আগ্নেয়গিরির ছাই বা দূষণের পরিমাণ বেশি হলে চাঁদ বেশি অন্ধকার দেখায় এবং স্কেলের মান কম হয়। তাই এই স্কেল ব্যবহার করে চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অবস্থা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।

সূর্যগ্রহণ (Solar Eclipses)
সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে। তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে এবং সূর্যগ্রহণ দেখা যায় (চিত্র দেখুন)। এই সময় চাঁদ থাকে অমাবস্যা অবস্থায় (New Moon)।

সূর্যগ্রহণের ধরন
সূর্যগ্রহণের ধরন বলতে বোঝায়, সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর অবস্থানের ভিন্নতার কারণে সূর্যের আলো কতটা অংশে ঢাকা পড়ছে তার ওপর ভিত্তি করে সূর্যগ্রহণকে যে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।


সূর্যগ্রহণ মূলত চার ধরনের

  • প্রথমটি হলো পূর্ণ সূর্যগ্রহণ (Total Solar Eclipse)। এ ক্ষেত্রে চাঁদ সম্পূর্ণভাবে সূর্যের সামনে চলে আসে এবং সূর্যের পুরো চাকতি ঢেকে যায়। তখন দিনের বেলায় কিছু সময়ের জন্য অন্ধকার নেমে আসে এবং সূর্যের চারপাশে আলোর বলয় বা করোনাও দেখা যেতে পারে।

  • দ্বিতীয়টি হলো আংশিক সূর্যগ্রহণ (Partial Solar Eclipse)। এতে চাঁদ সূর্যের কেবল একটি অংশ ঢেকে দেয়। ফলে সূর্যের বাকি অংশ দৃশ্যমান থাকে এবং আলো পুরোপুরি বন্ধ হয় না। পৃথিবীর সব জায়গা থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যায় না, কিন্তু আংশিক সূর্যগ্রহণ অনেক বিস্তৃত এলাকায় দেখা যেতে পারে।

  • তৃতীয়টি হলো বলয়াকার সূর্যগ্রহণ (Annular Solar Eclipse)। এই ধরনের গ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ সূর্যের সামনে এলেও আকারে তুলনামূলকভাবে ছোট দেখায়। তখন সূর্যের মাঝখানের অংশ ঢাকা পড়ে, কিন্তু চারপাশে উজ্জ্বল একটি আলোর বলয় রয়ে যায়। এই কারণেই একে বলয়াকার সূর্যগ্রহণ বলা হয়।

  • চতুর্থটি হলো হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ। এটি তুলনামূলকভাবে বিরল। পৃথিবীর কিছু স্থানে এটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণের মতো দেখা যায়, আবার কিছু স্থানে বলয়াকার সূর্যগ্রহণের মতো দেখা দেয়। পর্যবেক্ষণস্থানের ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর এর ধরন পরিবর্তিত হয়।

আবার কখনো কখনো সূর্য চাঁদের তুলনায় এত বড় দেখায় যে চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না, অথবা চাঁদ সূর্য ঢাকার জন্য খুব ছোট হয়ে যায়। তখন পূর্ণ সূর্যগ্রহণের বদলে আমরা বলয়াকার সূর্যগ্রহণ দেখি (চিত্র ৩৩ দেখুন)। এই সময় চাঁদের চারপাশে সূর্যের একটি উজ্জ্বল বলয় বা রিং দেখা যায়।

এই বিভিন্ন ধরনের সূর্যগ্রহণ আমাদের সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর কক্ষপথ ও দূরত্বের পার্থক্য বোঝাতে সাহায্য করে।

পূর্ণ সূর্যগ্রহণ: সাম্প্রতিক ও নিকট ভবিষ্যৎ
Total Solar Eclipse From 2026 To 2030



নিখুঁত সরলরেখায় অবস্থান (Perfect Alignment)
নিখুঁত সরলরেখায় অবস্থান (Perfect Alignment) বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থা, যখন সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় প্রায় সোজাসুজি অবস্থান করে। এই সময় তিনটি মহাজাগতিক বস্তুর মাঝখানে কোনো বড় কোণ তৈরি হয় না, ফলে আলো ও ছায়ার প্রভাব খুব স্পষ্টভাবে দেখা যায়।এই নিখুঁত সরলরেখায় অবস্থানই গ্রহণের মূল কারণ।

যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে এই সরলরেখা তৈরি করে, তখন সূর্যগ্রহণ ঘটে। আবার যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান নেয় এবং তিনটি বস্তু একই রেখায় আসে, তখন চন্দ্রগ্রহণ ঘটে।

তবে এই সরলরেখায় অবস্থান সব পূর্ণিমা বা অমাবস্যায় হয় না। কারণ চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে সামান্য হেলানো। কেবল তখনই গ্রহণ ঘটে, যখন চাঁদ তার কক্ষপথের এমন একটি বিন্দুতে থাকে, যেখানে এই তিনটি বস্তু প্রায় নিখুঁতভাবে এক সরলরেখায় অবস্থান করতে পারে।


Perfect Alignment

যেখানে এই দুটি কক্ষপথ একে অপরকে ছেদ করে (চিত্র দেখুন), সেখানেই গ্রহণ ঘটে, এবং তখনই যখন চাঁদ তার কক্ষপথে সেই ছেদবিন্দু অতিক্রম করে।এই দুটি ছেদবিন্দুকে বলা হয় লুনার নোড (Lunar Nodes)।

লুনার নোড (Lunar Nodes) বলতে বোঝায় চাঁদের কক্ষপথ ও পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণের কক্ষপথ যেখানে একে অন্যকে ছেদ করে, সেই দুইটি কাল্পনিক বিন্দু।

সহজভাবে বললে, এই দুই জায়গা দিয়েই চাঁদ তার কক্ষপথে চলার সময় সূর্য–পৃথিবীর সমতল কক্ষপথের ওপর দিয়ে উপরে বা নিচে অতিক্রম করে।


এই দুইটি লুনার নোডের আলাদা নাম আছে

  • একটিকে বলা হয় উর্ধ্বগামী নোড (Ascending Node)। এখানে চাঁদ পৃথিবীর কক্ষপথের সমতলের নিচ দিক থেকে উপরের দিকে উঠে আসে।
  • অন্যটি হলো অধোগামী নোড (Descending Node)। এখানে চাঁদ উপরের দিক থেকে নিচের দিকে নেমে যায়।লুনার নোড গ্রহণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।


সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ তখনই ঘটে, যখন অমাবস্যা বা পূর্ণিমার সময় চাঁদ এই লুনার নোডের খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। যদি চাঁদ নোডের কাছে না থাকে, তবে তিনটি বস্তু সরলরেখায় এলেও গ্রহণ ঘটে না।এই নোডগুলো স্থির নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো ধীরে ধীরে স্থান পরিবর্তন করে। তাই গ্রহণ নির্দিষ্ট সময় ও মৌসুমে ঘটে, যাকে গ্রহণ ঋতু বলা হয়। লুনার নোড আমাদের বুঝতে সাহায্য করে কেন সব পূর্ণিমা বা অমাবস্যায় গ্রহণ হয় না।

সংক্ষেপে বলা যায়, নিখুঁত সরলরেখায় অবস্থান সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি বিশেষ মুহূর্ত, যা গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটায়।পৃথিবীর কক্ষপথের সমতলকে বলা হয় ইক্লিপটিক (Ecliptic)। সংজ্ঞা অনুযায়ী সূর্য ও পৃথিবী সবসময় এই সমতলেই থাকে। কিন্তু চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সমতল থেকে প্রায় ৫ ডিগ্রি হেলে থাকে।

নোট:
এর মানে হলো, বছরে সর্বোচ্চ দুইবারই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যেতে পারে, যখন নোডগুলোর রেখা সূর্যের দিকে নির্দেশ করে। একই নিয়ম সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বছরে সূর্যগ্রহণও সর্বোচ্চ দুইবার হতে পারে।

চন্দ্রগ্রহণ শুধুমাত্র পূর্ণিমা অবস্থায় ঘটে, আর সূর্যগ্রহণ শুধুমাত্র অমাবস্যা অবস্থায় ঘটে। চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ—উভয়ই বছরে সর্বোচ্চ দুইবার পর্যন্ত ঘটতে পারে।

“চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন”
❓ চন্দ্রগ্রহণ কখন ঘটে?
চন্দ্রগ্রহণ শুধুমাত্র পূর্ণিমা অবস্থায় ঘটে, যখন চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার ভেতরে প্রবেশ করে এবং সূর্যের আলো চাঁদের ওপর পৌঁছাতে পারে না।
❓ সূর্যগ্রহণ কখন হয়?
সূর্যগ্রহণ শুধুমাত্র অমাবস্যা অবস্থায় ঘটে, যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করে এবং সূর্যের আলো আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেয়।
❓ চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ বছরে কয়বার হতে পারে?
চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ—উভয়ই বছরে সর্বোচ্চ দুইবার পর্যন্ত ঘটতে পারে। এর বেশি নয়।
❓ কেন প্রতি মাসে গ্রহণ হয় না?
কারণ চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে প্রায় ৫ ডিগ্রি হেলে থাকে। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ সবসময় সরলরেখায় অবস্থান করে না, তাই প্রতি মাসে গ্রহণ হয় না।
❓ একই বছরে কি চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ দুটোই হতে পারে?
হ্যাঁ, একই বছরে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ দুটোই হতে পারে, তবে নির্দিষ্ট কক্ষপথের অবস্থান মিললেই তা সম্ভব হয়।



নিবন্ধ: এফ. রহমান

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট